২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP) এর উত্থান এবং আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জনগণের মধ্যে যেমন প্রত্যাশা রয়েছে, তেমনি রয়েছে বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে সতর্ক-বার্তা। বিভিন্ন মহলের বক্তব্য এবং দলের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাহিদা হক তানহা বর্তমান সময় নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, যারা জুলাই আন্দোলনকে পুঁজি করে বড় পদে গিয়ে বসেছেন, তারা সাধারণ মানুষের কথা শোনার জন্য এখন আর সহজলভ্য নন। তিনি বলেন, "জুলাই আন্দোলন যেই প্রেক্ষাপটে হওয়ার কথা ছিল, পরবর্তী বাংলাদেশটা আমরা ওরকম পাই নাই"।
ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্র কবির চিশতি এনসিপির প্রতি কোনো প্রত্যাশার বোঝা না চাপিয়ে তাদের জাতীয় নীতি কী, তা জানতে চেয়েছেন। একই দিনে আরেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সুবাইতা বিন্তে সেলিম এনসিপির পদক্ষেপ সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিলেও তাদের উপর আস্থা রাখার প্রত্যাশা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, "এনসিপির একটা দিক হলো তারা পরিকল্পনা করে এগোতে চায়, হঠাৎ ছাপ দেয় না"।
এনসিপির অন্যতম আলোচিত অংশীদার চিকিৎসক তাসনিমারা পরিবর্তনের পথে হাঁটার চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে আন্দোলনের রাজনীতি চলে নৈতিক তাগিদে, কিন্তু নির্বাচনের রাজনীতি চায় শৃঙ্খলা, সংগঠন আর প্রতিষ্ঠান গড়া। তিনি বলেন, "এই দুটোকে একসঙ্গে ধরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ" এবং স্বল্প সময়ে দেশজুড়ে শূন্য থেকে সংগঠন গড়ে তোলা একটি বিশাল কাজ।
জুলাই মাসের শারীরিক নির্যাতনের শিকার তরুণ নাহিদ ইসলাম, যিনি এখন এনসিপির সাথে যুক্ত, জানান যে জনগণের কাছে বড় আকারে পৌঁছানোর জন্য এবং নিজেদের সংগঠিত করার জন্য এখনো সময় হয়ে ওঠেনি। তিনি স্বীকার করেন যে নির্বাচনের অভিজ্ঞতা না থাকায় এটি তাদের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তবে, তিনি বলেন, "একটি সুষ্ঠ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা এই সময়টা থেকে সামনের দিকে উত্তোরণ করতে পারি"।
দেশের নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে এনসিপি-এর সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ৩২ বছর বয়সী রিকশাচালক মোঃ সুজন খান দেশব্যাপী নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছেন। তিনি নিজের প্রার্থিতার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, "আমরা গরিব, আমরা গরিবের কষ্ট বুঝি"। তিনি সুযোগ চেয়ে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন যে, "আমাদেরকে একটা সুযোগ দেন, দেখেন আমরা কি করি"।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ সাহান এনসিপির জোট গঠন সম্ভাবনা নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এনসিপির সামনে মূলত দুটি পথ খোলা:
১. জোট গঠন: বিএনপি বা জামায়াতের সঙ্গে জোট করলে হয়তো তারা কয়েকটি আসন পেতে পারে এবং সংসদে প্রবেশের সুযোগ হবে।
২. স্পিরিট বিসর্জন: তবে এর ফলস্বরূপ "জুলাই আন্দোলনের স্পিরিট" বা সংস্কারের প্রশ্ন বিসর্জন দিতে হতে পারে।
অধ্যাপক সাহান সতর্ক করে বলেন, স্বল্প মেয়াদে কিছু লাভ হলেও শেষমেশ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে হারিয়েও যেতে পারে এনসিপি।
0 Comments