ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে 'শহীদ ওসমান হাদি হল' নামকরণ করেছেন শিক্ষার্থীরা। গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে প্রথমে ব্যানারের মাধ্যমে নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হলেও বর্তমানে সেখানে স্থায়ীভাবে নতুন নামফলক স্থাপন করা হয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র আন্দোলনের সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীরা দাবি তোলেন যে, ক্যাম্পাসের কোনো আবাসিক হল কোনো বিতর্কিত ব্যক্তির নামে থাকা উচিত নয়। এই দাবির প্রেক্ষিতে এবং শহীদ ওসমান হাদির রাজনৈতিক অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ সাধারণ শিক্ষার্থীরা হলটির নাম পরিবর্তনের এই উদ্যোগ নেন।
শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ঢাবি ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে। উপস্থিত জনতা এটিকে স্মরণকালের অন্যতম বড় জানাজা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আল সাবাহ জানান, তারা এর আগে দুইবার হল প্রশাসনের কাছে নাম পরিবর্তনের বিষয়ে স্মারকলিপি দিয়েছিলেন, কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তা কার্যকর হয়নি। হাদি ভাইয়ের মৃত্যুর পর শিক্ষার্থীদের মাঝে যে আবেগ ও দায়বদ্ধতা তৈরি হয়েছে, তার থেকেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। হল সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক মুশফিক তাজওয়ার মাহি বলেন, তারা আর কোনো হলের নাম শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে রাখতে চান না।
শিক্ষার্থীরা কেবল এই একটি হলের নাম পরিবর্তন করেই ক্ষান্ত নন। জানানো হয়েছে যে, 'শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল'-এর নাম পরিবর্তন করে 'শহীদ ফেলানি হল' রাখার প্রস্তাবনাও দিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য, শরীফ ওসমান হাদি রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছিলেন। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার এই মৃত্যুকে ঘিরেই বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কার ও নাম পরিবর্তনের এই জোয়ার শুরু হয়েছে।
0 Comments