নামাজের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে প্রতিবেশী যুবকের লালসা ও নৃশংস হামলার শিকার হয়েছেন চার মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা নারী। এই ঘটনায় ওই নারীর গর্ভস্থ সন্তানটি মারা গেছে বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ভোমরাডাঙ্গা গ্রামে।
ভুক্তভোগীর স্বামী ও স্বজনদের ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা থেকে ৭:৩০ মিনিটের দিকে ওই গৃহবধূ টিউবওয়েলে ওযু করতে বের হন। এ সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা প্রতিবেশী রুবেল হোসেন এবং তার সাথে থাকা আরও একজন তাকে জাপটে ধরে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। ভুক্তভোগী রুবেলকে চিনে ফেলায় সে আরও হিংস্র হয়ে ওঠে এবং তাকে এলোপাথাড়ি লাথি, কিল ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। বিশেষ করে ওই নারীর পেটে বারবার লাথি মারা হয়। তার চিৎকারে আশেপাশের মানুষ আসার আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় ওই নারীকে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক ডাক্তার নইমুল হোসেন নিশ্চিত করেছেন যে, আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার মাধ্যমে দেখা গেছে হামলার কারণেই গর্ভের সন্তানটি মারা গেছে (Incomplete abortion due to assault)। তিনি জানান, বর্তমানে বাচ্চাটি গর্ভ থেকে বেরিয়ে গেছে এবং পরবর্তী পরীক্ষার মাধ্যমে বাকি অবস্থা বোঝা যাবে।
ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযুক্ত রুবেল হোসেন ও অজ্ঞাত একজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রুবেল এর আগেও গ্রামে এ ধরনের জঘন্য কাজ করেছে এবং তার অত্যাচারে অনেকে ভিটেমাটি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। স্বজনদের আরও অভিযোগ, ঘটনা ধামাচাপা দিতে অভিযুক্তের পরিবার অর্থের বিনিময়ে রফাদফা করার জন্য তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রুবেল পলাতক রয়েছে। তবে তার পরিবার সব অভিযোগ অস্বীকার করে একে "সাজানো নাটক" হিসেবে দাবি করেছে। তাদের দাবি, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে শত্রুতাবশত রুবেলকে ফাঁসানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আরেফিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
এদিকে, গ্রামের সাধারণ মানুষ এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও অভিযুক্তদের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
0 Comments