৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পতন হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো নিয়ে ভারতের নীতি-নির্ধারক মহলে আলোচনার গুঞ্জন শুরু হয়েছে। দুই দেশের তলানিতে ঠেকে যাওয়া সম্পর্ক পুনর্গঠনে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুটি এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
৫ আগস্ট পতনের পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে পলাতক অবস্থায় আছেন। বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিচার কাজ চলছে এবং সাজাও হয়েছে। তাকে ফেরত দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার বারবার চিঠি ও অনুরোধ জানালেও এখন পর্যন্ত ভারত সরকার কোনো ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।
কংগ্রেস নেতা শশি থারুর এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন যে, ভারতের সংসদের পররাষ্ট্র বিষয়ক স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে চারটি প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই প্রতিবেদনগুলো আগামী বৃহস্পতিবার সংসদে উপস্থাপিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের নীতি-নির্ধারকদের মধ্যে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের আলোচনা শুরু হলেও, সেক্ষেত্রে শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়টি সবার আগে আসবে। বাংলাদেশের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ফিরিয়ে আনতে ভারতকে এই ইস্যুটিতে একটি স্পষ্ট অবস্থানে পৌঁছাতে হবে।
বিজয় দিবসের ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত দেওয়ার বিষয়টি পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া যথাযথভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আসামিদের দেশে ফেরানোকে সরকার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখছে।
ভারত শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে নাকি কেবল আলোচনার মাধ্যমেই সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি থাকা সত্ত্বেও শেখ হাসিনাকে ফেরানোর প্রক্রিয়াটি বর্তমানে কূটনৈতিক জটিলতায় আটকে আছে।
0 Comments