মস্কোতে ধারাবাহিক বোমা বিস্ফোরণ: রাশিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় চ্যালেঞ্জ


বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর দেশ রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি পৃথক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থাকা মস্কোতে এই ধারাবাহিক হামলা দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, মস্কোর ইয়েলো তস্কা স্ট্রিটে একটি বিস্ফোরণে দুই ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তাসহ মোট তিনজন নিহত হয়েছেন। টহলরত অবস্থায় পুলিশের একটি গাড়ির পাশে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করতে গেলে ওই ব্যক্তি নিজের কাছে থাকা বিস্ফোরকের মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটায়, যাতে দুই কর্মকর্তা ও এক বেসামরিক ব্যক্তি প্রাণ হারান।

এর মাত্র দুদিন আগে গত সোমবার এক গাড়ি বিস্ফোরণে রাশিয়ার একজন ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। নিহত লেফটেনেন্ট জেনারেল ফানিল সারভারব রাশিয়ার জেনারেল স্টাফের প্রশিক্ষণ বিভাগের প্রধান ছিলেন। তার গাড়ির নিচে রাখা বিস্ফোরক ডিভাইস থেকে এই বিস্ফোরণ ঘটে।

রাশিয়ার তদন্ত সংস্থাগুলোর ধারণা, সাম্প্রতিক এই হামলাগুলোর পেছনে ইউক্রেনের বিশেষ বাহিনীর হাত থাকতে পারে। যদিও ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

২০২২ সালে ইউক্রেন অভিযান শুরুর পর থেকেই রাশিয়ার সামরিক কর্মকর্তা ও ক্রেমলিনপন্থী ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মস্কোতে ইলেকট্রিক স্কুটার বিস্ফোরণে প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ইগর ক্রিলিবের মৃত্যু।
  • ২০২৩ সালের এপ্রিলে সেন্ট পিটারবার্গে সামরিক ব্লগার ম্যাক্সিম ফোমিনের মৃত্যু।
  • ২০২২ সালের আগস্টে আলেকজান্ডার দুগিনের মেয়ে দারিয়া দুগিনার মৃত্যু।


বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়ছে। বিশেষ করে মস্কোর মতো উচ্চ সুরক্ষিত এলাকায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ক্রেমলিনের জন্য একটি বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Post a Comment

0 Comments