ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় পুলিশ পরিচয়ে ঢুকে বিএনপি নেতাকে হত্যা


ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে পুলিশ পরিচয়ে ঘরে ঢুকে এক বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত।

ঘটনাটি ঘটে গত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে। নিহতের স্বজনদের দাবি, ২০ থেকে ৩০ জনের একটি সশস্ত্র দল পুলিশ পরিচয়ে ঘরে প্রবেশ করে। তারা ঘরে ঢুকেই নিহতের খোঁজ করতে থাকে এবং চাবি ও টাকা দাবি করে। এক পর্যায়ে তারা বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলামকে (ফারুক মোল্লা) ঘর থেকে টেনে হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যায় এবং এলোপাথাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।


নিহতের বোন এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা জানান, হামলাকারীরা চাইনিজ কুড়াল, পিস্তল এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে এসেছিল। তারা পরিবারের নারী সদস্যদের গলায় ধারালো অস্ত্র ধরে কানের দুল ও চেইন ছিনিয়ে নেয়। নিহতের ছোট বোন বাধা দিতে গেলে তাকেও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। মৃত্যুর আগে সাইফুল ইসলাম হামলাকারীদের মধ্যে খোকন মিয়ার দুই ছেলে এবং নুরু নামে এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে গেছেন বলে তার বোন জানান।

সহকারী পুলিশ সুপার (আলফাডাঙ্গা সার্কেল) জানান, আলফাডাঙ্গার ব্রাহ্মণঝাটি ও বিদ্যাধর গ্রামের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এটি মূলত 'মেম্বার গ্রুপ' এবং 'জুয়েল গ্রুপ'-এর মধ্যকার দ্বন্দ্বের ফল। ইতিপূর্বে এই দুই গ্রুপের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

পুলিশের তথ্যমতে, হামলাটি চালিয়েছে পলাতক জুয়েল এবং তার অনুসারীরা। গুরুতর আহত সাইফুলকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা চলছে এবং জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় শিক্ষিত ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ইতিপূর্বে এই বিবাদ মেটানোর চেষ্টা করলেও তারা ব্যর্থ হন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

Post a Comment

0 Comments