যাত্রাবাড়ীতে মাদ্রাসা থেকে শিশুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার: হত্যা না আত্মহত্যা?


রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় একটি মাদ্রাসা থেকে ৮ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিশুটির পরিবার এবং স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত শিশুটির বাবা জানান, মাদ্রাসার চারতলার টয়লেটের ভেতরে তিনি তার ছেলেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তিনি আরও জানান যে, তার ছেলে পাঁচতলায় পড়াশোনা করত, অথচ মরদেহ পাওয়া গেছে চারতলায় শিক্ষকদের জন্য সংরক্ষিত টয়লেটে, যেখানে ছাত্রদের প্রবেশ নিষেধ ছিল।

পরিবারের দাবি, শিশুটির পা মেঝের সাথে লেগে ছিল। এছাড়া তার শরীরে নখের আঁচড়ের দাগ ছিল এবং আত্মহত্যার কোনো স্বাভাবিক লক্ষণ (যেমন জিহ্বা বের হওয়া বা চোখ বড় হওয়া) ছিল না। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে যে, মাত্র ৮ বছরের একটি ছোট শিশু কীভাবে একটি গামছা দিয়ে এবং সামান্য উচ্চতার একটি মোড়ায় দাঁড়িয়ে উঁচু জায়গায় ফাঁস লাগাতে পারে।

অভিভাবক বা প্রশাসনের উপস্থিতি ছাড়াই মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কেন দ্রুততার সাথে ড্রিল মেশিন দিয়ে টয়লেটের দরজা ভেঙে মরদেহ বের করল, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন স্বজনরা। ঘটনার সঠিক সময় বা শিশুটি যে একা টয়লেটে ঢুকেছিল, তার কোনো স্পষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ পরিবারকে দেখানো হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। সুরতহাল রিপোর্ট এবং ময়নাতদন্তের ফলাফল পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নিহতের বাবা একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন যা রেকর্ড করা হয়েছে। পুলিশ মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

নিহত শিশুর পরিবার একে হত্যাকাণ্ড হিসেবে দাবি করে ন্যায়বিচারের প্রার্থনা জানিয়েছে।

Post a Comment

0 Comments