৪৭তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে 'মুক্তিযুদ্ধ' (Liberation War) না লিখে 'প্রতিরোধ যুদ্ধ' (Resistance War) এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে 'দখলদার বাহিনী' (Occupying Forces) হিসেবে উল্লেখ করার ঘটনায় নতুন করে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রশ্নে এমন শব্দচয়ন ইতিহাস বিকৃতির আশঙ্কা ও পাকিস্তান প্রীতির অভিযোগ তুলেছে গবেষক, পরীক্ষার্থী এবং বিশিষ্ট নাগরিক মহল।
গত ৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ৪৭তম বিসিএস পরীক্ষার বাংলাদেশ বিষয়াবলী অংশের প্রশ্নপত্রে এই বিতর্কিত শব্দগুলোর ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। চার ঘণ্টার ২০০ নম্বরের 'মহানন্দা সেট'-এর এক নম্বর প্রশ্নে বলা হয়েছে: "১৯৭১ সালের মার্চ-এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা প্রতিরোধ যুদ্ধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিন।"।
একাধিক পরীক্ষার্থী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অবস্থায় গণমাধ্যমকে এই প্রশ্নের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ঢাকার একজন পরীক্ষার্থী বলেন, 'প্রতিরোধ যুদ্ধ ও দখলদার বাহিনীর শব্দগুলো দেখে কিছুটা খটকা লেগেছে।' বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যেও আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।
এই ধরনের শব্দচয়ন নিয়ে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ও যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির ডক্টরাল ফেলো আসিফ বিন আলী তীব্র সমালোচনা করেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক লেখক ও গবেষক সালেক খোকন এই শব্দ ব্যবহারের পেছনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, "দখলদার বলে পিএসসি (পাবলিক সার্ভিস কমিশন) পাকিস্তান শব্দটিকে সচেতনভাবে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করল কিনা এটি বরং তাদের প্রশ্ন করা প্রয়োজন"। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের শব্দের ব্যবহার আমাদের 'পাকিস্তান প্রেমকেই স্পষ্ট করে' এবং এটি স্বাধীনতার ইতিহাসকে এক ধরনের বিভ্রান্তিতে ফেলার চেষ্টা কিনা, সেই সন্দেহও থেকে যায়। তার মতে, আগে ইতিহাসের অতিরঞ্জন দেখা গেলেও এখন ইতিহাসকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যা দুঃখজনক।
0 Comments