ভেনিজুয়েলাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নিজ দেশেই সংকটের মুখে পড়েছে। ক্যারিবিয়ান সাগরে সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌকায় মার্কিন বাহিনীর হামলায় চারজন নিহতের ঘটনা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন করে তদন্তের দরজা খুলে দিয়েছে। অন্যদিকে, ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে জনগণকে প্রতিরোধের জন্য উদ্বুদ্ধ করছেন, যা ট্রাম্প প্রশাসনের একটি কূটনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সম্প্রতি লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলা ঘিরে ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই এই অঞ্চলে মাছ ধরার নৌকা লক্ষ্য করে একের পর এক বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী, এতে এখন পর্যন্ত ৮০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছেন। চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ক্যারিবিয়ান সাগরে সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হামলায় চারজন নিহত হয়েছে বলে পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে।

এই হামলাগুলোর তথ্য সামনে আসার পর পুরো অভিযান ঘিরে নতুন করে তদন্তের মুখোমুখি হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোনিন লেভিড জানিয়েছেন, শীর্ষ মার্কিন নৌ কমান্ডার এডমিরাল ফ্র্যাঙ্ক ব্র্যাডলি তার আইনগত ক্ষমতার মধ্যেই ভেনিজুয়েলার জাহাজে দ্বিতীয় হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেক্সেত হামলার অনুমোদন দিলেও 'সবাইকে হত্যা করতে' বলেননি।


জাতিসংঘ এসব হামলাকে 'বিচার বহির্ভূত হত্যা' অভিহিত করে অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। আইন বিশ্লেষকদের মতে, নিরস্ত্র ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে এই ধরনের হামলা 'যুদ্ধপরাধ' হিসেবে গণ্য হতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ভেনিজুয়েলার মাদকচক্রকে নির্মূল করতেই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করা হচ্ছে এবং এসব হামলা সশস্ত্র সংঘাতের আইন মেনেই করা হয়েছে।


মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে ভেনিজুয়েলার পরিস্থিতি। মাদুরোর অনমনীয়তা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি কূটনৈতিক ব্যর্থতা এবং কৌশলগত সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়তে দেশবাসীকে উদ্বুদ্ধ করছেন এবং ট্রাম্পের 'দেশ ছাড়ার' আহ্বান কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ট্রাম্প যখন হোয়াইট হাউসে বৈঠক করছিলেন, তার আগে রাজধানী কারাকাসে মাদুরো সমর্থকদের সামনে বিরাট জনসভায় ভাষণ দেন। সেখানে তিনি নেচে নেচে ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করেন এবং বলেন যে যুক্তরাষ্ট্র শান্তির বিনিময়ে তাদের কৃতদাস বানাতে চায়। মাদুরো দাবি করেন যে, চীন ভেনিজুয়েলাকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিচ্ছে এবং তারা শান্তি প্রতিষ্ঠার অধিকারকে সমর্থন করে। তিনি বলেন, সশস্ত্র সংগ্রামের পথ বেছে নিতে হলে তা শান্তি, সার্বভৌমত্ব এবং মাতৃভূমি রক্ষার জন্য হবে।

ভেনিজুয়েলার নৌকায় হামলার ঘটনায় নিজ দেশেই ট্রাম্প বেকায়দায় পড়েছেন। হামলার বৈধতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট আইন প্রনেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং কংগ্রেসনাল পর্যালোচনার ঘোষণা দিয়েছেন।