দীর্ঘ ১৬ বছরেরও বেশি সময় পর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই নির্বাসিত জীবন এবং দেশত্যাগের নেপথ্যে থাকা ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক কারণ।
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে জরুরি অবস্থা জারির পর তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু করে। সেই সময় অর্থাৎ ২০০৭ সালের ৭ মার্চ বনানীর 'হাওয়া ভবন' থেকে তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারসহ প্রায় ১৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
কারাবন্দী অবস্থায় রিমান্ডে থাকাকালীন তার ওপর প্রচণ্ড শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। এর ফলে তার মেরুদণ্ড (স্পাইনাল কর্ড) গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং স্বাভাবিক চলাফেরা অসম্ভব হয়ে পড়ে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর পরামর্শ দেন।
১৮ মাস কারাভোগের পর ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তিনি সব মামলায় জামিন পান এবং আদালতের অনুমতি নিয়ে চিকিৎসার জন্য ১১ সেপ্টেম্বর লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বিচার কাজ শুরু হয় এবং পরিস্থিতি জটিল হতে থাকে।
সাজা ও আইনি লড়াই:
- ২০১৩ সাল: মানি লন্ডারিং মামলায় খালাস পেলেও পরে উচ্চ আদালত তাকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেন।
- ২০১৮ সাল: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১০ বছর এবং ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
- এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানহানির মামলায় তার বিরুদ্ধে সাজার রায় ঘোষণা করা হয়। তবে বিএনপি ও তারেক রহমান সবসময়ই এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রণোদিত বলে দাবি করে এসেছেন।
0 Comments