দেশের অর্থনীতির 'লাইফলাইন' হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম বন্দরের দুর্নীতি এবং বন্দর পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন বন্দর রক্ষা পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা হাসান মারুফ রুমি।। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান সরকার বন্দরের দুর্নীতি নিয়ে যথাযথ তদন্ত না করে কেবল 'মুখস্থ কথার মতো' বক্তব্য দিচ্ছে এবং দুর্নীতির অজুহাত ব্যবহার করে বন্দরের বিভিন্ন স্থাপনা বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
হাসান মারুফ রুমি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যে সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তারা অন্যান্য বিষয়ে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করলেও, দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি এই বন্দর নিয়ে কোনো তদন্ত করেনি। সরকারের পক্ষ থেকে কেবল বলা হচ্ছে যে 'দুর্নীতি আছে', কিন্তু কোথায় দুর্নীতি আছে তা চিহ্নিত করা বা দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য কোনো সুপারিশমালা তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
চট্টগ্রাম বন্দরের দুর্নীতিকে কেবল কর্মরত শ্রমজীবী মানুষের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যা একটি 'ভাওতাবাজি'। তার মতে, এই দুর্নীতি মূলত ক্ষমতা কেন্দ্রিক এবং রাজনৈতিক দুর্নীতি। কারণ, বন্দরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নির্মাণ বা ইজারা সংক্রান্ত বড় সিদ্ধান্ত বন্দর কর্তৃপক্ষ একা নিতে পারে না, বরং তা রাজনৈতিক উচ্চমহল থেকেই আসে।
হাসান মারুফ রুমি, পায়রা বন্দর তৈরির সিদ্ধান্তকে 'অপচয়মূলক' এবং 'অকার্যকর' বলে সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব টাকায় এই বন্দর তৈরি করা হয়েছিল কতিপয় মানুষের পকেট ভরার জন্য, যা রাজনৈতিক দুর্নীতির একটি স্পষ্ট উদাহরণ।
হাসান মারুফ রুমি স্পষ্টভাবে বলেন যে, নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি চট্টগ্রাম বন্দরের স্থাপনা—বিশেষ করে সিসিটি (CCT) ও এনসিটি (NCT)—কোনোভাবেই বিদেশিদের হাতে হস্তান্তর করা উচিত নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি করার আগে অবশ্যই দেশের লাভকে প্রধান্য দিতে হবে এবং বিনিয়োগকারীদের লাভের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে, অর্থাৎ একটি 'উইন-উইন সিচুয়েশন' (Win-Win Situation) ছাড়া কোনো চুক্তি হতে পারে না।
তিনি অভিযোগ করেন যে, কোনো রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা পর্যালোচনা ছাড়াই অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে এবং গোপনীয়ভাবে চুক্তি সম্পন্ন করার পদ্ধতিটি নিজেই একটি দুর্নীতিমূলক প্রক্রিয়া।
দুর্নীতির কারণ অনুসন্ধানের আগে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী মহলের (ক্ষমতা কেন্দ্রিক) দুর্নীতি দূর করতে হবে। তিনি মনে করেন, সিদ্ধান্ত গ্রহীতার মাথার দুর্নীতি দূর না করে কেবল নীচের স্তরের দুর্নীতি দূর করা সম্ভব নয়। বন্দরকে দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়।
0 Comments