শরীয়তপুরে গণধর্ষণের অভিযোগ: প্রাথমিক তদন্তে গড়মিল, মেডিকেল রিপোর্টে আলামত নেই


শরীয়তপুরে এক কলেজছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হলেও, চ্যানেল ২৪-এর অনুসন্ধানে ও সদর হাসপাতালের প্রাথমিক মেডিকেল পরীক্ষায় অভিযোগটির সত্যতা নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে।

গত ৯ ডিসেম্বর রাত ৮টার দিকে শরীয়তপুর বন বিভাগের সামনের সড়ক থেকে এক নারী ও তার বন্ধু সজীবকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয়রা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে ওই নারী নিজেকে অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্রী দাবি করে অজ্ঞাত তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ আনেন। তার দাবি, কলেজ থেকে ফেরার পথে বখাটেরা তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে।

তবে, ভুক্তভোগীর বক্তব্যে শুরু থেকেই ভিন্নতা দেখা যায়। প্রথমে তিনি বলেন, তিনজনে মিলে খারাপ কাজ করেছে, কিন্তু পরে তিনি ভিন্ন বক্তব্য দেন যে একজন শারীরিক সম্পর্ক করেছে এবং একজন ছবি তুলেছে। এই ভিন্নতার কারণ হিসেবে তিনি জানান, বন্ধু সজীব তাকে বলেছিল যে যদি তারা নিজেদের বন্ধু হিসেবে পরিচয় দেয়, তবে বিষয়টি মামলা পর্যন্ত গড়াবে না।

ভুক্তভোগী নারী আসলে কোনো কলেজের শিক্ষার্থী নন। তিন বছর আগে তার সঙ্গে থাকা বন্ধু সজীবের সঙ্গে সম্পর্কের জেরেই তার স্বামীর সাথে বিচ্ছেদ ঘটেছিল। ঘটনার দিন তিনি বন্ধু সজীবকে নিয়েই বেড়াতে বের হয়েছিলেন। ভুক্তভোগী পরে জানান, অজ্ঞাত কয়েকজন ব্যক্তি তাদের জোর করে বন বিভাগের ভেতরের একটি বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের মারধর করা হয় এবং তাকে ছুরির ভয় দেখিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হয়।

বুধবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভুক্তভোগীর বক্তব্যের মধ্যে অনেক গড়মিল খুঁজে পান। তারা জানান, এই অসঙ্গতির কারণে তদন্তে জটিলতা দেখা দিয়েছে। তবে তারা আশ্বাস দেন, অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বন বিভাগের মালি জাকির হোসেন জানান, তিনি পরে মেয়েটিকে স্বাভাবিকভাবেই বোরকা ও হিজাব পরে হেঁটে যেতে দেখেছেন

বুধবার বিকেলে সদর হাসপাতালে ভুক্তভোগীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রাথমিক ফিজিক্যাল এক্সামিনেশনে তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এছাড়া, প্যাথোলজিক্যাল এক্সামিনেশন (ভেজাইনাল সোয়াব) করেও সেখানে কোনো স্পার্মের উপস্থিতি মেলেনি, যা প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত হিসেবে গণ্য নয়। চূড়ান্ত মতামতের জন্য ডিএনএ পরীক্ষার সুপারিশ করা হয়েছে


সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া, ভুক্তভোগীর পরস্পর বিরোধী বক্তব্য এবং প্রাথমিক মেডিকেল পরীক্ষার আলামত না পাওয়ায় ঘটনাটি এখন আরো রহস্যময় হয়ে উঠেছে। সবার অপেক্ষা এখন ডিএনএ রিপোর্ট ও চূড়ান্ত তদন্তের দিকে।

Post a Comment

0 Comments