রাজধানী ঢাকার কারওয়ান বাজারে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষুব্ধ জনতা প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে এবং এক পর্যায়ে ডেইলি স্টার ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়।
কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার অফিস ঘিরে বিক্ষুব্ধ জনতা অবস্থান নেয়। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে ডেইলি স্টার ভবনে ভাঙচুর চালানো হয় এবং পরবর্তীতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ডেইলি স্টার ভবনটি দাউদাউ করে জ্বলছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী পৌঁছায়। তারা বিক্ষুব্ধ জনতাকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়। সেনাবাহিনীর সদস্যরা আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিয়ে এলাকাটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ভবনে আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে।
সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তাঁর মৃত্যুর খবর আসার পর রাজধানীসহ সারাদেশে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা, রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতি শোক প্রকাশ করেছেন এবং রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর শাহবাগে শোক মিছিল করেন এনসিপির শীর্ষ নেতারা এবং সদ্য বিদায়ী উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সহ জুলাই আন্দোলনের সহযোদ্ধারা। এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম ঘোষণা করেছেন যে, তাঁদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
কারওয়ান বাজার ছাড়াও চট্টগ্রাম ও গাজীপুরে অনুরূপ বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে, যেখানে চট্টগ্রামে ভারতীয় হাই কমিশনারের বাসভবন ঘিরে আন্দোলনের তথ্য পাওয়া যায়।
0 Comments