টিকটক করা নিয়ে বিরোধ: স্ত্রীকে হত্যার পর সেপটিক ট্যাঙ্কে লাশ গুমের চেষ্টা, স্বামী আটক


টিকটক করা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অতিরিক্ত সময় দেওয়াকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধের জেরে স্ত্রীকে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। হত্যার পর প্রমাণ লোপাটের জন্য লাশটি সেপটিক ট্যাঙ্কে লুকিয়ে রাখেন অভিযুক্ত স্বামী। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে (স্থানের নাম ভিডিওতে নির্দিষ্ট নেই, তবে জেলা গোয়েন্দা শাখা তদন্ত করেছে)।

পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মুকুল, যিনি পেশায় একজন লেদ শ্রমিক। গত ১৫ তারিখে মুকুল নিজে থানায় এসে অভিযোগ করেন যে, তাঁর স্ত্রী পরকীয়া করে অন্য কারও সাথে চলে গেছেন। তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর শ্বশুরবাড়িতেও খোঁজ নিয়েছেন কিন্তু সেখানেও তাঁর স্ত্রীকে পাওয়া যায়নি।

তবে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত শুরু করলে তথ্যের গড়মিল পায়। তদন্তে দেখা যায়, স্ত্রীকে বাড়ির ভেতরে ঢুকতে দেখা গেলেও সেখান থেকে বের হতে কেউ দেখেনি। এই সন্দেহের ভিত্তিতে মুকুলের গতিবিধি নজরে রাখা হয় এবং এক পর্যায়ে তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তিনি স্বীকার করেন যে, তিনি তাঁর স্ত্রীকে হত্যা করে বাড়ির ম্যানহোলের (সেপটিক ট্যাঙ্ক) ভেতরে লাশ ফেলে রেখেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, নিহতের সাজগোজ এবং টিকটক বা গানে ব্যস্ত থাকা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া চলত। এলাকাবাসীর একজন জানান, মুকুল আগে থেকেই প্রচার করেছিলেন যে তাঁর স্ত্রী অন্য কারও সাথে চলে গেছেন। হঠাৎ করেই ম্যানহোলের ভেতর থেকে লাশের সন্ধান পাওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামবাসীরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

পুলিশ ইতোমধ্যে লাশটি উদ্ধার করেছে এবং অভিযুক্ত মুকুলকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নিহতের একটি ছোট সন্তান রয়েছে বলেও জানা গেছে।

Post a Comment

0 Comments