বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় মা ও ৩ মেয়েকে নৃশংস হত্যা: নেপথ্যে লোমহর্ষক তথ্য


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডোরে যে সায়মার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার কথা ছিল, সেই সায়মা এখন নিথর দেহ হয়ে খাটিয়ায় । বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় চেনা প্রতিবেশীর চরম ক্ষোভ আর প্রতিশোধের আগুনে এক নিমিষেই ধুলোয় মিশে গেল একটি পুরো পরিবার। রাজধানীর একটি চার দেয়ালের শক্ত নিরাপত্তা ভেদ করে মা ও তিন কন্যা সন্তানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।

তদন্তে জানা গেছে, এই লোমহর্ষক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল কারিগর নোয়াখালীর সুবর্ণচরের বাসিন্দা অন্তর মজুমদার। পেশায় সে একজন সাধারণ ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা। অন্তর ওই পরিবারের অচেনা কেউ ছিল না; সে দীর্ঘ বেশ কয়েক মাস আগে একই ভবনে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকত। সেই সুবাদে বাবাহারা অসহায় পরিবারটির সাথে তার আগে থেকেই জানাশোনা ছিল। এক পর্যায়ে সে সায়মাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে সায়মা এবং তার পরিবার তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। আর এই প্রত্যাখ্যানের ক্ষোভ থেকেই সে এই নারকীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে

২৫ জুন সকাল সাড়ে ১০টায় সুপরিকল্পিতভাবে পানির মিস্ত্রি সেজে চেনা ওই বাসায় প্রবেশ করে ঘাতক অন্তর। ঘরে ঢুকেই সে ধারালো অস্ত্র নিয়ে মা ও তিন বোনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলেই মা শাহিনুর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সায়মা এবং ৯ বছরের ছোট বোন শিফা মারা যান। মেজো বোন ইকরাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে সে-ও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে

ভেতর থেকে যখন বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার আসছিল, তখন এক প্রতিবেশী সাহসিকতার সাথে এগিয়ে আসেন। তিনি দেখতে পান ঘাতক অন্তর প্রায় নগ্ন ও রক্তমাখা শরীর নিয়ে ঘর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছে । তাৎক্ষণিকভাবে ওই প্রতিবেশী বাইরে থেকে বাসার মূল গেটটি টেনে তালা আটকে দেন এবং চিৎকার করে লোক জড়ো করেন

গেট আটকে দেওয়ায় ঘাতক অন্তর খাঁচায় বন্দি পশুর মতো আটকে পড়ে। পরবর্তীতে উত্তেজিত জনতা তাকে ধরে গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় নরপিশাচ অন্তরেরও মৃত্যু হয়।

মূল ঘাতক অন্তর গণপিটুনিতে মারা যাওয়ায় এই মামলার তদন্ত এখন এক জটিল সমীকরণের মুখোমুখি। অপরাধ বিশ্লেষক ও তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্পূর্ণ একা একটি বাড়িতে চারজন নারীকে কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই নিখুঁতভাবে খুন করা প্রায় অসম্ভব। এর পেছনে কোনো পেশাদার অপরাধী চক্রের ব্লুপ্রিন্ট বা অন্য কোনো সহযোগী ছিল কিনা তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। মূল আসামি জীবিত না থাকায় সত্য উদ্ঘাটন করা পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলেও, পুলিশ এখন ফরেন্সিক ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় পর্দার পিছনের কুশীলবদের খুঁজছে

Post a Comment

0 Comments