জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তে অগ্রণী ভূমিকা রাখা সত্ত্বেও সরকারের ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুইয়া প্রত্যাশিত পদ না পাওয়ায় দলটিতে যোগ দিতে পারছেন না। এর ফলে সরকারের আরেক ছাত্র উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। সম্প্রতি পদত্যাগকারী দলটির দুজন কেন্দ্রীয় নেতা সংবাদ সম্মেলন করে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।
সরকারের পদে থাকা সত্ত্বেও নীতি বহির্ভূতভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখায় আসিফ মাহমুদ সজীব ভুইয়া সমালোচিত হয়েছিলেন। জানা গেছে, আসিফ সরকার থেকে পদত্যাগ করলেও, এনসিপিতে তার জন্য নির্ধারিত পদটি না পাওয়ায় তিনি দলটিতে যোগ দিতে পারছেন না। এনসিপিতে যোগ দিতে না পারার এই বিষয়টি সরকারের আরেক ছাত্র উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের সঙ্গে আসিফ মাহমুদের দ্বন্দ্বের খবর প্রকাশ্যে আনতে শুরু করেছে।
পদত্যাগকারী নেতা আরিফুল ইসলাম তালুকদার ও মোহাম্মদ রাকিব হোসেন জানান, আসিফ মাহমুদ এনসিপিতে যে পদটি চেয়েছিলেন, সেটি মাহফুজের কোরামের একজন দখল করে আছেন। ফলে, আসিফ এখনও এনসিপিতে আসতে পারেননি, যা দুই ছাত্র উপদেষ্টার মধ্যে সম্পর্কের অবনতির ইঙ্গিত দেয়। তবে তারা স্বীকার করেন যে, এনসিপি গঠনে আসিফের অনেক অবদান ছিল।
সম্প্রতি এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির দুজন কেন্দ্রীয় নেতা—আরিফুল ইসলাম তালুকদার ও মোহাম্মদ রাকিব হোসেন। শাহবাগে সংবাদ সম্মেলন করে তারা পদত্যাগের কারণ হিসেবে দলটির "ইসলাম বিদ্বেষী মনোভাব" এবং "সীমাহীন অনিয়ম"-কে দায়ী করেন। পদত্যাগকারীরা অভিযোগ করেন যে, উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের নেতৃত্বে দলে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী কোরাম রয়েছে, যা সমস্ত নীতি নির্ধারণ করে এবং এই কোরামের বাইরে গিয়ে কারও পক্ষে দলে টিকে থাকা সম্ভব নয়। তারা আরও অভিযোগ করেন যে, মাহফুজের গুরু ফরহাদ মজহার আবুল সরকারের নিঃশর্ত মুক্তি চাইছেন, যা দলের মধ্যে দ্বৈত নীতির সৃষ্টি করছে। তাদের প্রশ্ন, যে সদস্য আবুল সরকারের বিচার চাইবে, সে নীতি নির্ধারকদের পরিচালিত করা ফরাদ মাজারের প্রভাবে থাকা দলে থাকতে পারবে কি না।
নেতারা অভিযোগ করেন যে, তরুণদের এই দলটি মন্ত্রীপাড়া থেকে পরিচালিত হয় এবং দলে গণতন্ত্রের চর্চা নেই। তারা জানান, সাংগঠনিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে মন্ত্রীপাড়ায় গভীর রাতে (রাত দুটো-তিনটে) মিটিং করে সিদ্ধান্ত জানানো হতো, যা কেন্দ্রীয় কমিটিতে থাকা সত্ত্বেও তাদের সাংগঠনিক কাঠামোর বাইরে রাখে। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, ও কমিশন খাওয়ার মতো খারাপ বিষয়গুলো দূর করার আশা করা হলেও তারা তা করতে পারেননি। তাদের মতে, যেসব অপকর্মের সাথে জড়িত, তাদের কারণে গণঅভ্যুত্থান ইতিমধ্যেই ব্যর্থতার দিকে চলে গেছে।
পদত্যাগকারী নেতারা এনসিপি থেকে বেরিয়ে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেবেন কিনা, সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট তথ্য দেননি।
0 Comments