বন্ধুকে কুপিয়ে হত্যা: রক্তমাখা কুড়াল নিয়ে থানায় হাজির অভিযুক্ত যুবক


ময়মনসিংহের ত্রিশালে বাল্যবন্ধু মুন্তাসির ফাহাদকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার পর অভিযুক্ত যুবক ওহিদুল ইসলাম অনিক নিজেই রক্তমাখা কুড়াল হাতে থানায় হাজির হন।
এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর, ২০২৫) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ওহিদুল ইসলাম অনিক রক্তমাখা চাইনিজ কুড়াল হাতে নিয়ে ত্রিশাল থানায় প্রবেশ করেন। কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের হতভম্ব করে দিয়ে তিনি জানান যে, তিনি তার বন্ধু মুন্তাসির ফাহাদকে হত্যা করে এসেছেন।

ডিউটি অফিসারের রুমে প্রবেশ করে অনিক বলেন, "স্যার আমাকে অ্যারেস্ট করেন, আমি একজনকে খুন করে আসছি।" পরে পুলিশ তাকে নিরস্ত্র করে।

অনিক ও ফাহাদ বাল্যবন্ধু ছিলেন এবং ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে তাদের একসাথে পথচলা। যে স্কুল মাঠে তারা একসাথে খেলাধুলা করে বড় হয়েছেন, ত্রিশালের নজরুল একাডেমীর মাঠের পাশেই সেই বন্ধুর ওপর কুড়াল দিয়ে হামলা চালান অনিক। প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা অনুযায়ী, ফাহাদের দেহে পাঁচ থেকে ছয়টি কুড়ালের আঘাত ছিল এবং তার গলা প্রায় অর্ধেক পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ জানায়, তাদের দুজনের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পূর্বশত্রুতা বিরাজ করছিল এবং ইতিপূর্বে মারামারির ঘটনাও ঘটেছিল।

অভিযুক্ত অনিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন যে, তিনি বেশ কিছুদিন ধরে ফাহাদকে হত্যা করার পরিকল্পনা করছিলেন। তবে হত্যার মূল ও সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত নয় পুলিশ।

নিহত মুন্তাসির ফাহাদ মালয়েশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় তিনি প্রায় চার মাস ধরে দেশে অবস্থান করছিলেন।

সব ঠিক থাকলে ৭ ডিসেম্বর ফাহাদকে মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা ছিল তার বাবার। ঘটনার পর ফাহাদের বাবা অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি, অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড (ফাঁসি) দাবি করেছেন।

হত্যাকারী অনিক টাঙ্গাইলের করটিয়া সরকারি শাহাদত কলেজের দর্শনের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুইজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত ওহিদুল ইসলাম অনিককে ইতোমধ্যে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Post a Comment

0 Comments