আল-আকসা মসজিদ কি কেড়ে নিচ্ছে ইসরাইল? এবার নামাজ পড়তে গেলেই জেলের হুমকি


ফিলিস্তিনের মুসলমানদের ঐতিহাসিক ও পবিত্র ধর্মীয় স্থান আল-আকসা মসজিদকে কেন্দ্র করে ইসরাইলের কট্টরপন্থী সরকারের নতুন এবং কঠোর রূপরেখা মুসলিম বিশ্বে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে। শত শত বছরের পুরনো এই পবিত্র ভূমির একক রীতিনীতি বদলে ফেলার জন্য জোর তৎপরতা চালাচ্ছে দখলদার রাষ্ট্র ইসরাইল।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, এখন থেকে আল-আকসা মসজিদের ইমাম, খতিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে ইসরাইলের বড় ভূমিকা থাকবে। এমনকি প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজে ইমাম সাহেব কী খুতবা দেবেন, তা-ও আগে থেকে কট্টরপন্থী নেতানিয়াহু সরকার দ্বারা যাচাই-বাছাই ও অনুমোদিত হতে হবে

বহু বছরের রীতিনীতি অনুযায়ী অমুসলিম বা অন্য ধর্মের মানুষের এই মসজিদে প্রার্থনার কোনো সুযোগ ছিল না। তবে বর্তমানে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে সাধারণ ফিলিস্তিনি মুসলিমদের জন্য আল-আকসায় প্রবেশাধিকার প্রায় পুরোপুরি সংকুচিত করে দেওয়া হয়েছে। উল্টো সম্ভাব্য নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে সেখানে ইহুদিদের বড় দল নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থনা করার অনুমতি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে

মিডল ইস্ট আই-এর একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেট কুশনার এবং ইসরাইলে নিযুক্ত তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মদদে আল-আকসার ওপর থেকে জর্ডানের ঐতিহাসিক দেখভালের দায়িত্ব (কাস্টডি) কেড়ে নেওয়ার কাজ চলছে। তাদের মূল লক্ষ্য, মুসলিমদের একক অধিকার হটিয়ে আল-আকসাকে একটি বহু ধর্মের প্রার্থনালয় হিসেবে ঘোষণা করা। ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রীসহ কট্টরপন্থী নেতারা প্রতিনিয়ত জোরপূর্বক আল-আকসায় প্রবেশ করে উগ্র মন্তব্য ও ইহুদি সেটেলারদের সেখানে চড়াও হতে উৎসাহিত করছেন

জেরুজালেমের প্রধান ধর্মীয় নেতার মতে, আল-আকসার ঐতিহাসিক পরিচয় সম্পূর্ণ ধ্বংস করার মাঠপর্যায়ের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা চলছে। পুরনো জেরুজালেমের বহু ফিলিস্তিনি ঘরবাড়ি ও সরকারি সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য ইসরাইল বিশেষ দল গঠন করেছে, যার ফলে স্থানীয় আরব বাসিন্দারা পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন

শত শত ফিলিস্তিনি যারা পূর্বে নিয়মিত সেখানে ইবাদত করতেন, তারা এখন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। দূর পাহাড় বা মসজিদ থেকে অনেক দূরে দাঁড়িয়ে চোখের জল ফেলে ফিলিস্তিনিদের নামাজ আদায় করতে হচ্ছে। স্থানীয় এক ফিলিস্তিনির ভাষ্যমতে, "ইসরাইলিরা হুমকি দিয়েছে যে, আমি আল-আকসার ১০০ মিটারের মধ্যে গেলে বা প্রবেশের চেষ্টা করলে আমাকে গ্রেফতার করে জেলে ঢোকাবে"।

ফিলিস্তিনিদের এই চরম অসহায়ত্বের সুযোগে আল-আকসার ভেতরে ইসরাইলি পতাকা হাতে দখলদারদের প্রায়ই বিজয় উল্লাস করতে দেখা যাচ্ছে, যা পবিত্র এই ভূমির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে

Post a Comment

0 Comments