মামলা খেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে মোটর সাইকেল চালক নিজেই ট্রাফিকের ভূমিকায় অবতীর্ণ


তারিখে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের পাকীজা পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রম চলাকালীন এক মোটরসাইকেল চালককে হেলমেট না পরার কারণে ৩,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা প্রদানের পরপরই চালকটি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ট্রাফিক পুলিশের কর্মকাণ্ডের প্রতি প্রশ্ন তোলেন।

জরিমানা হওয়া চালক জানান, গাড়ির কাগজপত্র এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স সবই ঠিক ছিল। কেবল দোকানের কাজ করে আসার পথে হেলমেটটি পিছনে রাখা ছিল, মাথায় পরেননি, যার জন্য তাঁকে এই মামলা দেওয়া হয়।

তাঁর মূল ক্ষোভ ছিল আইনের বৈষম্যমূলক প্রয়োগ নিয়ে। তিনি দাবি করেন, "১০ জনের জন্য আইন সমান হতে হবে"। তাঁর অভিযোগ, অন্যান্য আইন অমান্যকারী, যেমন—হেলমেট ছাড়া তিনজন আরোহী নিয়ে যাওয়া মোটরসাইকেল, রিকশা, এবং উল্টোপথে চলমান গাড়িগুলো পুলিশের সামনে দিয়ে গেলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, অথচ তাঁকে জরিমানা করা হলো।

ক্ষোভের বশে ওই চালক নিজেই সড়কে নেমে পড়েন এবং উল্টো পথে আসা একটি গাড়িকে ধরে ট্রাফিক সার্জেন্টের কাছে মামলা দেওয়ার দাবি জানান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "আমার চেয়ে জঘন্যতম অপরাধ উনি উল্টা গেছে তাহলে কেন এটা করলো কেন"?

দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট, ক্ষুব্ধ চালকের অভিযোগের জবাবে, তাদের নিয়মিত কার্যক্রমের বিষয়টি তুলে ধরেন। তবে, তাঁরা কিছু চ্যালেঞ্জের কথাও স্বীকার করেন, ৪০-৫০ কিলোমিটার গতিতে চলমান গাড়ী থামাতে গেলে দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

মহাসড়কে নিষিদ্ধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচলকে সার্জেন্ট একটি "জাতীয় ইস্যু" হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, জনবল কম এবং জব্দকৃত গাড়ি রাখার কোনো ডাম্পিং পয়েন্ট না থাকায় সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তারা সমস্যায় পড়ছেন। সার্জেন্ট আনোয়ার আরও বলেন, অটোগুলো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং তাদের ওপর থেকে এগুলো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা আসেনি।

আরেকজন চালক মুজাহিদ হোসেন হৃদয়কে আটক করা হয়, যিনি হেলমেট ছিল না বলে জানান। তাঁর দাবি, হেলমেটটি চুরি হওয়ায় তিনি সেটি মেরামতের জন্য দোকানে যাচ্ছিলেন। তিনি নিজের ভুল স্বীকার করলেও ৩,০০০ টাকা জরিমানার পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, এর উত্তরে সার্জেন্ট জানান যে ৩,০০০ টাকার জরিমানা তাদের হাতে নেই। এটি ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেট করা আছে।

এক পর্যায়ে, রেজিস্ট্রেশনবিহীন ("অন টেস্ট"), ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং হেলমেটবিহীন একটি দামি মোটরসাইকেলকে জব্দ করে পুলিশ।

আইনগতভাবে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মহাসড়কে অবাধে চলাচল করছে। ট্রাফিক পুলিশ নিষিদ্ধ যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করছে, সম্ভবত মহাসড়ক অবরোধ হওয়ার আশঙ্কায়, এবং এর পরিবর্তে কাগজপত্রবিহীন ও হেলমেটবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ায় মনোযোগ দিচ্ছে।

Post a Comment

0 Comments