কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদে দানবাক্সে মিলল ৩৫ বস্তা টাকা


কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সগুলো আবারও খোলা হয়েছে। আজ শনিবার (২৭ ডিসেম্বর ২০২৫) তিন মাস ২৭ দিন পর মসজিদের দান সিন্দুকগুলো খোলা হলে সেখানে ৩৫ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে।

জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মসজিদের নিচতলায় থাকা লোহার সিন্দুকগুলো খোলা হয়। সিন্দুক থেকে টাকাগুলো প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় নেওয়া হয়। সেখানে মেঝেতে ঢেলে শুরু হয় গণনার কাজ। টাকা গণনায় পাগলা মসজিদ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মীসহ প্রায় ৪৫০ জন মানুষ অংশ নেন। গণনার কাজে সহায়তার জন্য ইলেকট্রনিক মেশিনও ব্যবহার করা হয়। পুরো কার্যক্রম চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।

জনশ্রুতি আছে, কিশোরগঞ্জ শহরের নরসুন্ধা নদীর চরে এক আধ্যাত্মিক পাগল সাধকের আস্তানা ছিল, যার মৃত্যুর পর সেখানে এই মসজিদ নির্মিত হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা মানত করে এই মসজিদে দান করতে আসেন। অনেকের বিশ্বাস, এখানে দান করলে মনের আশা পূরণ হয়। এর আগে ৩০ আগস্ট ২০২৫ তারিখে দানবাক্স খোলা হয়েছিল। তখন রেকর্ড ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা পাওয়া গিয়েছিল।

মসজিদের প্রাপ্ত দানের টাকা দিয়ে প্রায় ১১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক বহুতল মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

সংগৃহীত টাকা রুপালী ব্যাংকে মসজিদের অ্যাকাউন্টে জমা করা হয় এবং সোনা-গয়না বা বৈদেশিক মুদ্রা জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে রাখা হয়।

দান সিন্দুকগুলো সাধারণত ৩ মাস পর পর খোলা হয়, তবে সিন্দুক ভরে যাওয়ার ওপর ভিত্তি করে এই সময় নির্ধারণ করা হয়।

Post a Comment

0 Comments