ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও ভাঙচুর শুরু হয়েছে। গতকাল রাত থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ ও ভাঙচুর আজ জুম্মার সকালেও অব্যাহত রয়েছে।
গত শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল এবং পরবর্তীতে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়া হলেও গতকাল রাত ৯টা ৪০ মিনিটে সিঙ্গাপুর থেকে তার ইন্তেকালের খবর আসে। এই খবর দেশে পৌঁছানোর পরপরই বিক্ষুব্ধ জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু করে।
বিক্ষুব্ধ জনতা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে ভাঙচুর চালাচ্ছে। উপস্থিত বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, বিগত সরকারের এই স্মৃতিচিহ্নগুলো পুরোপুরি গুঁড়িয়ে না দেওয়া পর্যন্ত তারা এখান থেকে সরবেন না। একজন বিক্ষোভকারী তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এই স্থাপনাটি "ফ্যাসিস্টদের কিবলা" এবং তারা বাংলাদেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদের কোনো অস্তিত্ব রাখতে চান না। তারা এই বাড়িটিকে পুরোপুরি সংস্কার বা উচ্ছেদ করে এর চিহ্ন মুছে ফেলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি হলো, শরিফ ওসমান হাদির উপর হামলাকারী আসামিদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। হামলাকারীরা এখন পর্যন্ত আটক না হওয়ায় জনমনে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।
বর্তমানে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুরো বাড়িটি ঘিরে বিক্ষুব্ধ জনতা অবস্থান করছে এবং বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেয়েও জনতাকে আরও বেশি আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা গেছে, যারা স্থাপনাটি সম্পূর্ণ ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
0 Comments