গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত 'প্রথম আলো' ও 'ডেইলি স্টার' কার্যালয়ে বর্বরোচিত হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এ পর্যন্ত ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বিশ্লেষণ করে এ অভিযান চালানো হয়। প্রথম আলোর এক ভিডিও প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রথম আলো ভবনে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পর কুড়াল হাতে উল্লাস করা যে যুবকের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল, তার নাম মোহাম্মদ মাইনুল ইসলাম। গোয়েন্দা পুলিশ তাকে ঢাকার উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করেছে। তার গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায়।
একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে দাঁড়িয়ে হামলার কৃতিত্ব দাবি করা এবং উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়া এই ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করেছে ডিবি, তিনি যুব মজলিসের শরীয়তপুর জেলা শাখার নেতা। ভিডিওতে তিনি দাবি করেছিলেন, ৫ আগস্ট যা করার কথা ছিল, তা তারা সেদিন করেছেন।
নিয়াজ মাহমুদ ফারহান, ফেসবুকে হামলার ছবি শেয়ার করে অন্যদের যোগ দিতে আহ্বান জানানোর অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বাড়ি ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায়। গত দুই দিনে মোট ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে নোয়াখালী, রংপুর, চাঁদপুর, ময়মনসিংহ ও ঢাকার বেশ কয়েকজন যুবক রয়েছেন।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ভিডিও ফুটেজ ও ছবি বিশ্লেষণ করে শতাধিক ব্যক্তিকে সরাসরি হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। হামলায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে আরও অন্তত ২০ জনকে শনাক্ত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ডেইলি স্টার কার্যালয়ের সামনে ইংরেজি দৈনিক 'নিউ এজ'-এর সম্পাদক নূরুল কবীরকে হেনস্তা করার ঘটনায় জড়িতদেরও শনাক্ত করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে উস্কানি দিয়ে ১৮ ডিসেম্বর রাতে এই সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়, যেখানে দীর্ঘ সময় ধরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল।
0 Comments